Publish Date: 08 Jun 2026 10:09:33 AM
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আজ ০৮ জুন ২০২৬ খ্রি. তারিখ সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-০১ এর সভাকক্ষে আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিল আয়োজিত হয়।
উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবিপ্রবি’র মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মোহাম্মদ জুনাইদ কবির। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.তানজিম মাহমুদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক এবং সহকারী অধ্যাপক জনাব সাদ্দাম হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক জনাব মোঃ নাফিজ মন্ডল।
প্রধান অতিথি মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী তার বক্তব্যের শুরুতেই বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, ১৯৩৬ সালে জন্ম ও ১৯৮১ সালে শাহাদাৎ বরণ পর্যন্ত পয়ঁতাল্লিশ বছরের স্বল্প আয়ুর জীবনে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে সকল সংকটময় লগ্নে নেতৃত্ব দিয়ে এবং বহুদলের গণতান্ত্রিক আর্দশকে ধারণ করে জনমতকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবভিত্তিক অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-শিল্প-শিক্ষা ও গণশিক্ষা প্রভৃতি কর্মসূচী গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে জননন্দিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে সফলতা ও সুনাম অর্জন করেছিলেন। এছাড়া বিশেষভাবে খাল খনন কর্মসূচীর মাধ্যমে খাদ্য ঘাটতির এই দেশে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও গ্রামীণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়ে দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছিলেন এবং এ কর্মসূচীতে ছাত্রাবস্থায় তিনি নিজেও অংশগ্রহণ করেছিলেন তা সবিশেষ উল্লেখ করেন। আজ থেকে ৪৫ বছর আগে কতিপয় দুষ্কৃতিকারীরর হাতে নৃশংসভাবে শহীদ হয়েছিলেন। এমন মৃত্যু তথা হত্যাকান্ড কখনোই কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন; এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন সকল অপরাধের বিচার দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানের আলোকে হওয়া সমীচীন, এটাই সকল নাগরিকের প্রাপ্ত অধিকার। তিনি তার বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যু পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম ফ্রেজার কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি তুলে ধরেন। বিবৃতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতির জনপ্রিয়তা, কঠোর পরিশ্রম, সততা ও দ্বিগুণ খাদ্যশস্য উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও তিনি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সার্ক (SAARC) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণের কথা তুলে ধরেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে আর্দশ রেখে গেছেন তা ধারণ করে ও তাঁর ভালো কাজগুলো অনুসরণ করে এবং তাঁর সততার মনোভাবকে নিজেদের মধ্যে এবং দেশের সমৃদ্ধির কাজে প্রয়োগ করে আমরা এগিয়ে যাবো এ আশা ব্যক্ত করেন।
অন্যান্য সকল বক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মের বিশেষ বিশেষ দিক নিয়ে আলোচনা করেন। সভার সভাপতি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোহাম্মদ জুনাইদ কবির তার বক্তব্যে বলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব ও সৎ প্রশাসনের কর্মসূচী ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, বহু দলের মতাদর্শকে সম্পৃক্ত করে দেশকে এগিয়ে নেয়ার ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। বর্তমানে তাঁর আর্দশ ও দর্শনকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেন এবং এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
পরিশেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তাঁর পরিবার বিশেষভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। দেশ ও জাতির সমৃদ্ধির জন্যও দোয়া করা হয়। এ দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল আলম। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, প্রক্টর, পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।