রাবিপ্রবি’র মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন

Publish Date: 11 May 2026 03:34:58 AM

রাবিপ্রবি’র মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান মহোদয়ের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর সভাকক্ষে আজ ১০ মে ২০২৬ খ্রি. তারিখ রোজ রবিবার দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জুরুরি সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্খিত ঘটনা এবং সামগ্রিক অভিযোগ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। যা নিম্নরূপ-

আসসালামু আলাইকুম ও শুভ অপরাহ্ন

আশা করছি সবাই ভালো আছেন। রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার যোগদানের ঠিক এক বছর চার মাস পূর্তিতে আজকের এই সংবাদ সম্মেলন। সবাইকে সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত জানাচ্ছি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর যে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেছিলাম, আজ সেটি কেমন করে পূর্ণতার দিকে ধাবিত হচ্ছে, তা বিচার করার ভার আপনাদের ওপর অর্পণ করার মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং সামগ্রিক অভিযোগ বিষয়ে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা প্রয়োজন, সেগুলো হলো—

বিশ্ববিদ্যালয় হলো নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের সুতিকাগার, যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতাও নতুন জ্ঞান তৈরির অনুসঙ্গ হিসেবে কাজ করতে পারে। ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পারস্পরিক শেয়ার করার সুযোগ সে প্রক্রিয়াকে অর্থবহ করে তোলে। কিন্তু সে শেয়ারিংয়ের পরিবর্তে অন্যায্য উপায়ে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে গোষ্ঠীস্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত করা কোনো অবস্থাতেই বিদ্যায়তনের সর্বোচ্চ পাদপীঠের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

আমরা লক্ষ্য করেছি, বিগত ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে দাবি আদায়ের জন্য এমন সব বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে, যেসব বিষয় আদৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পর্ষদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়নি এবং উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে তাঁর কার্যালয়ে তালা দেওয়ার মতো অছাত্রসুলভ কাজ করা হয়েছে রাজনৈতিক দলের ব্যানারে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ থাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত এখনো বহাল আছে। সঙ্গত কারণে এ জাতীয় কর্মকাণ্ড সুস্পষ্টভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচনার দাবি রাখে।

আমাদের নিকট দাবি সংবলিত কোনো ডকুমেন্ট পেশ না করা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত সংবাদ থেকে যতটা জেনেছি, সেটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী পুনর্বাসনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য অভিযোগ। কারণ, আমার সময়েই বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের ছাত্রসংগঠনের প্রায় দশজন ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করার অপরাধে নানা মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয় । কিন্তু এমন বাস্তবতায় এ অভিযোগ করা হলো, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালককে নানামাত্রিক অভিযোগে তাঁর সমস্ত দায়দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সাময়িকভাবে প্রকল্প পরিচালনার জন্য একটি আপৎকালীন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ড. নিখিল চাকমাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি মৌলিক বিবেচনা হয়ে থাকলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক তিনি কীভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ছয় মাস বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসক হিসেবে কাজ করেছেন? তিনি যথারীতি ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিন ধরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিট প্রকল্পের এসপিএম হিসেবে কাজ করছেন। এতসব দায়িত্বে যিনি আছেন, তাঁর বিষয়ে এ যাবৎ কোনো অভিযোগ জমা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রত্যক্ষণ/অডিট আপত্তি বিষয়ে যে বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে, তা রীতিমতো হাস্যকর। প্রথমত, এটি ছাত্রদের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়। দ্বিতীয়ত, মঞ্জুরি কমিশনের প্রত্যক্ষণ অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়, যার সঙ্গে দুর্নীতির সরলরৈখিক সম্পর্ক তৈরি করাটা না জানার কারণেই হয়ে থাকবে। উপরন্তু, এ জাতীয় অডিট আপত্তি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই নিষ্পন্ন হয়। কোনো কোনো বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজারেরও বেশি অবজারভেশন রয়েছে। মোদ্দাকথা হলো, এ প্রত্যক্ষণ বিষয়ে ইতোমধ্যেই মঞ্জুরি কমিশনকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। আরও দুঃখজনক, এ জাতীয় ডকুমেন্ট যাদের কাছে থাকার কথা নয়, তারা তা সংগ্রহ করেছে অসৎ উদ্দেশ্যে সেটি সহজেই অনুমেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ/পদোন্নতি কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে সম্পন্ন হয় না। সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যেই হয়ে থাকে, যা ইতিপূর্বে তথ্যপ্রমাণসহ আমাদের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে। দুঃখজনক হলো, নিয়োগের অনিয়ম হিসেবে যে ডকুমেন্ট প্রচার করা হচ্ছে, তা আদৌ নিয়োগ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ডকুমেন্ট কি না, অভিযোগকারীরা যাচাই না করেই জনসম্মুখে প্রকাশ করে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্টের অভিযোগে অভিযুক্ত, তেমনি তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপনীয় তথ্য পাচারকারীদের সম্পর্কও সুস্পষ্ট। সবার জ্ঞাতার্থে এতটুকু জানাতে চাই যে, এ যাবৎ যত নিয়োগ হয়েছে, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি মহোদয়গণ ইতিপূর্বে একাধিকবার নিয়োগ বিষয়ের স্বচ্ছতা ও পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে তাঁদের চরম সন্তুষ্টি ও পরিতৃপ্তির কথা প্রকাশ করেছেন। নিয়োগ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক মতের সংশ্লিষ্টতাকে সামনে এনে তারা আবারও ‘৩৬ জুলাই’-এর পূর্বের ট্যাগিং/ফ্রেমিংয়ের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চায় বলে মনে হলে আপত্তির কিছু থাকবে না হয়তো। ফ্যাসিবাদ লালন না করলে যোগ্যতাই হবে নিয়োগের মানদণ্ড; সেক্ষেত্রে আপত্তি করাটাও আপত্তিকর।

আপনারা জানেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৪-১৫ সেশনে ছাত্র ভর্তির মাধ্যমে। আমি যোগদানের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ছিলেন মাত্র ১৯/২০ জন। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘ একাডেমিক ব্যাকলগ ও সেশনজট তৈরি হয়েছিল। পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষকের সংখ্যা ছিল মাত্র দুজন। বিজ্ঞাপন দিয়েও শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। অথচ আমার এক বছরে প্রায় দশজন বিদেশি পিএইচডি ডিগ্রিধারীসহ ২৯ জন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পেরেছি। সেশনজট শূন্যে আনার চেষ্টা চলমান। যে শিক্ষকের জিপিএ ০.০১ কমানো হয়েছে, তা নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। কারণ, তিনি পিএইচডি ডিগ্রিধারী হওয়া সত্ত্বেও লেকচারার হিসেবে যোগ দিয়ে মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসোর্স বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছেন। আজ যদি এসব শিক্ষক অপমান, ট্যাগিং বা ফ্রেমিংয়ের শিকার হন, তাহলে এ বিশ্ববিদ্যালয় আবারও দীর্ঘ মেয়াদে ঝুঁকিতে পড়বে। কারণ, অসম্মানের মধ্যে কেউই স্বস্তিবোধ করবেন না। বলা ভালো, এখানে যোগদানের পরও কারও কারও অন্যত্র সুযোগ থাকা সত্ত্বেও উপাচার্যের অনুরোধে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে কাজ করতে থেকে যেতে রাজি হয়েছেন।

সুপ্রিয় সুহৃদ বন্ধুগণ,

পাহাড় আর সবুজের সম্মিলনে মনোরম লেকের কোলঘেঁষে যে বিশ্ববিদ্যালয় স্বপ্ন ছুঁয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে, তা এই দীর্ঘ বছরে যেমন গুটিকয়েক মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার দোলাচলে পড়ে তার যৌবনে পৌঁছাতে পারেনি, ঠিক তেমনি আজও সেরকম গুটিকয়েক ছাত্রের কমফোর্ট জোন নষ্ট হওয়ার কারণে এ বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রত্যাশিত রূপ পরিগ্রহ করার প্রয়াসে ব্যর্থ হতে চলেছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যদি বলি কী হয়নি এক বছরে; ১২/১৩ বছরে শুরু না হওয়া প্রকল্পের আওতায় একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ছাত্র-ছাত্রী হল, মেইন গেট, রাস্তাঘাট, দুটি ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, শিক্ষক নিয়োগ, সেশনজট দূরীকরণ, ক্যানটিন চালু ও মান বৃদ্ধি, পরিবহন পুল, নতুন বাস ক্রয় (প্রগতির পুলে নির্মাণাধীন), ডিনস অ্যাওয়ার্ড চালু, দুটি বড় কনফারেন্স, কনফারেন্স রুম, ছাত্র-ছাত্রী সবার নামাজের জায়গা, কানেক্টিং ব্রিজ, গেস্ট হাউস চালু, দীর্ঘদিন পেন্ডিং থাকা কর্মকর্তাদের আপগ্রেডেশন, বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রম চালু, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট পুনর্নির্মাণ, মনুমেন্ট, রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার তৈরি ইত্যাদি। এতদসত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তার বহিষ্কার নিয়ে আন্দোলনকারী ছাত্রদের যে বিশেষ মনোযোগ এবং প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে দেখেছি, তাতে বিষয়টি সামগ্রিক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটি খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করি।

বন্ধুরা,

আপনাদের লেখনীই পারে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে সকল স্টেকহোল্ডারের আস্থা ফিরিয়ে আনতে। সুতরাং জনগণের করের টাকায় পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা যখন তখন তালা ঝুলাবে, সেটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা আশা করি, সরকার ও রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা থেকে আপনাদের সামনে যে কনটেন্ট তুলে ধরা হলো, তার পরিপূর্ণ প্রতিফলন ঘটবে আপনাদের কলমের মাধ্যমে। চলমান থাকবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বগতি। ধন্যবাদ সবাইকে।

পরিশেষে উপরোক্ত উপস্থাপিত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন এবং মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর সকলের প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর প্রদান করেন। তিনি এ জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য সাংবাদিকবৃন্দকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।